ত্রিকোণমিতির উদ্ভাবক আত-তুসি
ত্রিকোণমিতির উদ্ভাবক আত-তুসিঃ
মুহম্মদ ইবনে মুহম্মদ ইবনে আল-হাসান আত-ত়ুসী নাসির আল দীন তুসী জন্মগ্রহণ করেন ইরানের তুস নামক এলাকাতে ১২০১ খ্রিস্টাব্দে শিয়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবেই তার বাবাকে হারান।তিনি শৈশব থেকেই নাসিরুদ্দীন তুসী বা স্রেফ তুসী নামে অধিক পরিচিত।
হামাদান এবং তুস নামক নগরীতে তিনি কুরআন, হাদিস, যুক্তিবিদ্যা, দর্শন এবং গণিত পড়েন। তিনি কিশোরকালেই নিশাপুরে দর্শন এবং গণিত পড়া শুরু করেন।তিনি ছিলেন একাধারে একজন মুসলিম বহুশাস্ত্রজ্ঞ, স্থপতি, দার্শনিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও ধর্মতাত্ত্বিক।মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম বিজ্ঞানী তুসীকে প্রায়শই ত্রিকোণমিতির উদ্ভাবক হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনিই প্রথম ত্রিকোণমিতিকে একটি স্বতন্ত্র গাণিতিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। মুসলিম মনীষী ইবনে খালদুন তাঁকে শ্রেষ্ঠ পারসিক পণ্ডিতদের অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করতেন।নাসির উদ্দিন তুসি তার সমস্ত প্রবন্ধ বা পুস্তিকা লিখেছিলেন আরবি ভাষায়। জ্ঞানের পরিধি ও গভীরতার দিক থেকে এই মহান মনীষীর জ্ঞানকে ইরানের মনীষী ইবনে সিনার সঙ্গে তুলনা করা হয়। এ দুজনের মধ্যে ইবনে সিনা চিকিৎসা শাস্ত্রে বেশি পারদর্শী ছিলেন। অন্যদিকে নাসির উদ্দিন তুসির দক্ষতা বেশি মাত্রায় প্রকাশিত হয়েছিল গণিতে। গণিতের নানা বিষয়ে বেশ কয়েকটি মূল্যবান বই লিখেছিলেন নাসির উদ্দিন তুসি। জার্মান প্রাচ্যবিদ কার্ল ব্রোকেলম্যান মনে করেন নাসির উদ্দিন তুসি বড় ধরনের অবদান রেখেছেন গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যায়। কার্ল ব্রোকেলম্যান তার বইয়ে এটাও উল্লেখ করেছেন যে, নাসির উদ্দিন তুসি বিজ্ঞান সম্পর্কিত অনেক বই অনুবাদ করেছিলেন এবং তিনিই প্রথমবারের মত ত্রিকোনমিতিকে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি দেন। জ্যোতির্বিদ্যার ওপরও কয়েকটি মূল্যবান রচনা রেখে গেছেন ইরানের এই মনীষী। গণিত বিষয়ে নাসির উদ্দিন তুসির বইগুলো মুসলিম পণ্ডিত বা আলেমদের শিক্ষা-কারিকুলামে স্থান পেয়েছিল। নাসির উদ্দিন তুসির কোনো কোনো মূল্যবান বই অনুদিত হয়েছিল কয়েকটি বিদেশী ভাষায়। ফলে ইউরোপীয় বিজ্ঞানীরা উপকৃত হয়েছিলেন এইসব বই থেকে ।মধ্যযুগের অন্যতম এই শ্রেষ্ঠ মুসলিম বিজ্ঞানী আত-তুসী

No comments