বিভীষিকাময় ১৫ ই আগস্ট

বাঙালি জাতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যিনি আমাদের স্বাধীনতার পথপ্রদর্শক ছিলেন।হাজার ত্যাগ স্বীকারের পর যখন স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশের উত্থান হলো, তখন ও কিছু পাকিস্তানপন্থী ও বিপথগামী কিছু মানুষ এ বিষয়টি মেনে নিতে পারে নি।দ্রুত উন্নতি এবং সফলতা তাঁদের বারবার হিংসা করতে বাধ্য করেছে।তাই বাঙালি জাতির সম্পূর্ণ উন্নতির ধারা ব্যাহত করতে দেশের বিপথগামী সেনাসদস্য তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ এর অনুমতি নিয়ে নিকৃষ্ট এই হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করে। এই দিনে বাঙালির জাতীয় জীবনে ঘটে এক নির্মম, নিষ্ঠুর পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ। সেনাবাহিনী এর কতিপয় উচ্চাভিলাষী ও উচ্ছৃঙ্খল সেনাসদস্য স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির মদদে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের নিজ বাসভবনে নৃশংসভাবে হত্যা করে।সেদিন বাড়িতে উপস্থিত কোনো সদস্য ই রক্ষা পাননি। সেদিন ঘাতকের গুলি থেকেও রক্ষা পায় নি ১০ বছরের শিশু রাসেল।এ হত্যাকাণ্ডের পর সম্পূর্ণ বাংলাদেশ এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এর মধ্যে পতিত হয়।তাই ১৫ ই আগষ্ট আমাদের শোক দিবস।


প্রতিবছরের ১৫ আগস্ট জাতীয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবে এ দিবসটি শোকের সাথে পালন করা হয়। এ দিবসে কালো পতাকা উত্তোলন ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনিমিত রাখা হয়। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এ দিবসের উৎপত্তি।সেদিন জাতির জনকের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনসহ নিহত হন ১৬ জন ৷১৫ আগস্ট নিহত হন মুজিব পরিবারের সদস্যবৃন্দ: ছেলে শেখ কামাল; শেখ জামাল ও শিশু পুত্র শেখ রাসেল; পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজী কামাল; ভাই শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগনে শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি ৷ বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসেন কর্নেল জামিলউদ্দীন, তিনিও তখন নিহত হন ৷ দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোটবোন শেখ রেহানা ৷প্রতি বছর ১৫ আগস্ট জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সকল সদস্যদের, পালিত হয় জাতীয় শোক দিবস ৷বাঙালির আবেগঘন এই মূহুর্তে FOA News গভীর শোক প্রকাশ করছে।

No comments

Powered by Blogger.